পুলিশ ড্রাইভার নিয়োগ ২০২৫ (Police Driver Recruitment 2025) বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির সুযোগ। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল ড্রাইভার নিয়োগের মাধ্যমে বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে চায়। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীর ন্যূনতম এসএসসি (SSC) পাস, বৈধ হেভি ভেহিকেল ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা আবশ্যক।

পুলিশ ড্রাইভার পদের প্রধান দায়িত্ব হলো পুলিশের সরকারি গাড়ি নিরাপদে চালানো, অভিযানে অংশগ্রহণ করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করা। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং police.teletalk.com.bd পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হয় এবং লিখিত, শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয়।
এই পদে বেতন কাঠামো সরকারি ১৭তম গ্রেড অনুযায়ী ৯,০০০–২১,৮০০ টাকা। এছাড়া বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, পেনশন ও উৎসব ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদান করা হয়। নিয়োগের পর প্রার্থীরা ৪ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ পুলিশে স্থায়ীভাবে যোগদান করেন।
যারা স্থিতিশীল সরকারি চাকরি, সামাজিক মর্যাদা এবং দেশের সেবার মহান সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য পুলিশ ড্রাইভার নিয়োগ ২০২৫ একটি সেরা ক্যারিয়ার বিকল্প। সর্বশেষ আপডেট ও অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তির জন্য নিয়মিত www.police.gov.bd ভিজিট করুন।
পুলিশ ড্রাইভার নিয়োগ ২০২৫ | Police Driver Recruitment 2025
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। প্রতি বছর বিভিন্ন পদে নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হয়। এর মধ্যে “পুলিশ ড্রাইভার নিয়োগ ২০২৫” একটি বিশেষ পদ, যেখানে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ড্রাইভারদের সরকারি চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়। এই পদে যোগ দিয়ে প্রার্থীরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারেন। নিচে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, পরীক্ষা, বেতন কাঠামো এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
১. পদ সম্পর্কে ধারণা (About Police Driver Post)
পুলিশ ড্রাইভার পদটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপূর্ণ পদ। এই পদে নিয়োজিত ব্যক্তিরা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, থানায় বা বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত থেকে পুলিশ বাহিনীর গাড়ি চালানোর দায়িত্ব পালন করেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ তদন্তে অংশগ্রহণ, অভিযানে গাড়ি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপদে পরিবহনসহ নানা কাজে যুক্ত থাকেন। একজন পুলিশ ড্রাইভারকে শুধু ভালো ড্রাইভারই নয়, শৃঙ্খলাপরায়ণ, দায়িত্বশীল এবং সতর্ক হতে হয়। কারণ পুলিশের প্রতিটি অভিযান ও মিশনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পদে নিয়োগ পেলে প্রার্থী শুধু ড্রাইভিং নয়, বরং পুলিশের সার্বিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের সেবা করার সুযোগ পান। তাই এই পদটি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সম্মানজনক ও স্থিতিশীল ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত।

২. শিক্ষাগত ও শারীরিক যোগ্যতা (Educational and Physical Qualifications)
পুলিশ ড্রাইভার পদে আবেদন করার জন্য প্রার্থীর অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে ন্যূনতম এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক। তবে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা এই পদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। প্রার্থীর অবশ্যই বৈধ “Heavy Vehicle” ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে এবং কমপক্ষে দুই বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রে, পুরুষ প্রার্থীদের ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি হতে হবে, বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি এবং ফুলানো অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি হতে হবে। দৃষ্টি শক্তি স্বাভাবিক (৬/৬) হতে হবে এবং শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে। বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের জন্য বয়সে ২ বছর পর্যন্ত ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে।
৩. আবেদন প্রক্রিয়া (Application Process)
পুলিশ ড্রাইভার নিয়োগ ২০২৫ এর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। প্রার্থীদের বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.police.gov.bd অথবা আবেদন পোর্টাল police.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
প্রথমে প্রার্থীকে নির্ধারিত আবেদন ফরমে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। আবেদন করার সময় প্রার্থীর সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি (৩০০x৩০০ পিক্সেল) ও স্বাক্ষর (৩০০x৮০ পিক্সেল) আপলোড করতে হবে। এরপর ফি হিসেবে ৪০ টাকা টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
ফরম পূরণের পর আবেদনকারীরা একটি User ID ও Password পাবেন, যা ভবিষ্যতে Admit Card ডাউনলোডের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রার্থীদের SMS ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরীক্ষার তারিখ ও স্থান জানানো হবে। আবেদনকাল সাধারণত ১৫-৩০ দিন পর্যন্ত খোলা থাকে, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫
৪. পরীক্ষার ধাপ (Exam Stages)
পুলিশ ড্রাইভার নিয়োগ পরীক্ষার ধাপ তিনটি ভাগে বিভক্ত — লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা।
প্রথম ধাপ: লিখিত পরীক্ষা
এই পরীক্ষায় প্রার্থীর সাধারণ জ্ঞান, ট্রাফিক আইন, ড্রাইভিং সংক্রান্ত তত্ত্ব এবং যুক্তিবোধ যাচাই করা হয়। প্রশ্নের ধরন সাধারণত এমসিকিউ (MCQ) এবং লিখিত উভয়ই হতে পারে। মোট নম্বর ১০০ এবং পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা।
দ্বিতীয় ধাপ: শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা (Physical Test)
এখানে প্রার্থীর শারীরিক ফিটনেস যাচাই করা হয়। সাধারণত ৫ কিলোমিটার দৌড়, পুশ-আপ, সিট-আপ, এবং মেডিকেল পরীক্ষা নেওয়া হয়। চোখ, রক্তচাপ, ওজন, উচ্চতা সবকিছু যাচাই করা হয়।
তৃতীয় ধাপ: মৌখিক পরীক্ষা (Viva Voce)
শেষ ধাপে প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা, নৈতিকতা এবং পুলিশের কাজে আগ্রহ যাচাই করা হয়। যারা সব ধাপ উত্তীর্ণ হন, তারাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

৫. বেতন কাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা (Salary and Benefits)
পুলিশ ড্রাইভার পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা সরকারি বেতন কাঠামোর ১৭তম গ্রেডে বেতন পান। মূল বেতন ৯,০০০ থেকে ২১,৮০০ টাকার মধ্যে, সাথে বিভিন্ন ভাতা যেমন—বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা, ও উৎসব ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। গড়ে মাসিক বেতন ১৮,০০০ থেকে ২২,০০০ টাকার মধ্যে হয়।
চাকরিতে যোগদানের পর প্রশিক্ষণকালীন সময়ে বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া এবং পোশাক সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ হাসপাতালের মাধ্যমে প্রার্থীরা চিকিৎসা সুবিধা পান। নিয়োগের পর চাকরি স্থায়ী হলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি, এবং পদোন্নতির সুযোগও থাকে।
এছাড়া পুলিশ বাহিনীতে চাকরি করার ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে, যা ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়। এটি শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, বরং একজনের পেশাগত জীবনে গর্বের বিষয়।
৬. প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতি (Training and Promotion)
নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ ড্রাইভারদের জন্য প্রাথমিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত প্রার্থীরা পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (Police Training Center) চার মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। এখানে ড্রাইভিং দক্ষতা, ট্রাফিক নিয়ম, আইন প্রয়োগ, শৃঙ্খলা ও আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রার্থীরা বিভিন্ন ইউনিট বা থানায় ড্রাইভার হিসেবে যোগ দেন। চাকরির প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হয়। এই সময়ে কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভালো পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে — যেমন কনস্টেবল ড্রাইভার থেকে নায়েক ড্রাইভার, পরে হাবিলদার পদে উন্নীত হওয়া যায়।
৭. উপসংহার (Conclusion)
পুলিশ ড্রাইভার নিয়োগ ২০২৫ বাংলাদেশের তরুণদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ, যারা সরকারি চাকরি ও দেশসেবার মহৎ কাজে যুক্ত হতে চান। এই পদে আবেদন করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কেবল পেশাগত স্থিতি পান না, বরং সমাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।
যোগ্যতা পূরণ করলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করুন এবং নিয়মিত বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করুন। যথাযথ প্রস্তুতি ও মনোযোগ দিয়ে লিখিত, শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিন। কঠোর পরিশ্রম এবং সততার মাধ্যমে একজন দক্ষ পুলিশ ড্রাইভার হয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অবদান রাখুন।

বাংলাদেশ পুলিশ অফিসিয়াল সাইট
বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল সাইট
বিডিজবস – চাকরি পোর্টাল
ঢাকা ট্রিবিউন – চাকরি সংবাদ






